• CREATIVE WRITING

    বাবা | ইয়াসির রাফা

    #১ কিছুদিন ধরেই রঞ্জুর মন খারাপ। শুধু খারাপ না,ভয়ংকর খারাপ। রিফাত, যে তার সবচেয়ে ভাল বন্ধু, সে তার নতুন সাইকেলটি রঞ্জুকে ধরতেও দেয়নি সেদিন । ‘রিফাত একটা আস্ত ছোটলোক’ মনে মনে ভাবলো রঞ্জু। রিফাতের উপর রাগ থেকেই হোক বা যাই হোক রঞ্জুর মাথায় সাইকেল এর ভূত চেপে বসলো। প্রতিদিন আব্বুর কাছে সাইকেল কিনে দেয়ার জন্য বায়না করে । ‘সাইকেল কিনে দাও, সাইকেল কিনে দাও’ বলে ঘ্যানর ঘ্যানর করে একদম অতিষ্ঠ করে তোলে বাবাকে। সাইকেল হলো এখন একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। সাইকেল কিনলে কোথায় কোথায় যাবে, রিফাত কে দেখিয়ে দেখিয়ে চালাবে এইসব চিন্তা করেই আপাতত দিন পার করছে সে। আজ সকালে নাস্তা খাওয়ার সময় বাবাকে আবার সাইকেল এর কথা বলেছিল রঞ্জু। কিন্তু আব্বু…

  • CREATIVE WRITING

    একজন পাগলের দৃষ্টিতে ডিপ্রেশন: প্রলাপ-১ | উচ্ছাস তৌসিফ

    শুরুর আগে: আমি নিজে অনেক সময়ই ভয়াবহ ডিপ্রেশনে ভুগি। এমনিতে এই নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। মাথা খারাপের মত অবস্থা নিয়ে কথা বলতে কার ভাল লাগে? তাছাড়া আমার নিজের কোন ডিগ্রিও নেই যে এই নিয়ে প্রফেশনালি কথা বলতে পারব। কিন্তু আজকাল ডিপ্রেশন জিনিসটা নিয়ে সবার চিন্তা-ভাবনা দেখে আমার মনে হয়, এই নিয়ে টুকটাক কথা বলাই যায়। এখানে আমি যা বলব, এসবই আমার নিজের মতামত। আপনি যদি প্রফেশনাল মতামত চান, এই জিনিস আপনার না পড়াই ভাল। অ্যামেচার মতামত দিয়ে কাজ চালানোর প্রথম কথা হচ্ছে, আপনি নিজেই একবার নিজের ডিপ্রেশন কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে দেখতে চান কিনা। চাইলে, চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তারপর নাহয় ভাববেন, আসলেই প্রফেশনাল কারো হাতে নিজেকে তুলে…

  • CREATIVE WRITING

    “ভ্রম” | উম্মে শারিকা

        রাতুল চোখ মিটমিট করে সামনে তাকায়। এটা…. সেই বাড়ি না? অস্বস্তিতে মনটা ভরে উঠে। ভাগ্যের চাকা এভাবে ঝড়-বাদলের রাতে বিপদের দিনে তাকে এই বাড়ির সামনেই এনে ফেলল? গুটিগুটি পায়ে এগোয় রাতুল। পুরো বাড়িটা কবরের মতো নিস্তব্ধ। আলো নেই, কোন মানুষও নেই। ধ্বংসের চিহ্ন যেন বাড়ির সর্বত্র। আর এই ধ্বংসের প্রায় সবটার জন্যই রাতুলই দায়ী। অতীতের দিনগুলো একঝলক উঁকি দিয়ে যায় রাতুলের মনে। এই বাড়ির একমাত্র মিষ্টি মেয়েটার সাথে রাতুলের যখন বিয়ে হয়েছিল, সেটা ৫ বছর আগেকার কথা। সুখের স্বপ্ন নিয়ে বাঁধা ঘরটা যখন চুরচুর করে ভেঙে পড়তে থাকে, অসহায় মেয়েটার কিছুই করার ছিলনা। রাতুল তার উপর নির্মম অমানবিক অত্যাচার চালাতো, কখনো যৌতুকের জন্য, কখনো বা অকারণেই। পৈশাচিক অত্যাচারে…

  • CREATIVE WRITING

    শূণ্যতা | অক্ষয় শ্যাম

    শূণ্যতা অক্ষয় শ্যাম     চারিদিকে এখন শূন্যতা স্বপ্নগুলো পাচ্ছে না পূর্ণতা। কাঁপছে প্রদীপ শিখা শেষবারের সেই দেখা অশ্রুতেই রইবে আঁকা। সম্ভব হচ্ছে না বেচে থাকা, ঘুরছে না স্নেহের চাকা- ভেতরটা এখন ফাঁকা।   শূণ্যতা দেখা দেয় চারিদিকে কেঁদে কেঁদে উঠে মনটা থেকে-থেকে খুব মনে পরে মাকে। কোথায় চলে গেলে আমায় রেখে? দুঃখী কদম ফুটছে শাখে শাকে নিজের বেদনা নিজের কাছেই থাকে কেউই বুঝতে পারে না ব্যাথাটাকে।   আমি যে বড়ই অসহায় সবাই থাকে নিজের ব্যাস্ততায়, ইচ্ছে করে লুকিয়ে থাকি তোমার আঁচলটায়। মাথা রেখে তোমার কোলটায় অনুভব করি তোমায় এই শূণ্যতায়। Use Facebook to Comment on this Post

  • CREATIVE WRITING

    গরুর গাড়ি

    গরুর গাড়ি   গরুর গাড়ি চলছে যে ঐ গাঁয়ের মেঠোপথে চাকা দুটো চলছে যে তার চলছে কোনোমতে। চলছে গাড়ি,চলছে গাড়ি টানছে যে তা গরু গাছগাছালি যাচ্ছে যে দেখা রাস্তা যে নয় সরু। একপাশে তার ঘর বাড়ি সব আরেক কোনায় গাড়ি গারোয়ান ঐ গরুর উপর দচ্ছে লাঠির বারি। গরুর গাড়ি গাঁ ঘেঁষে যে যাবে অনেক দূরে আঁকা বাঁকা পথের মাঝে অল্প একটু ঘুরে।   Use Facebook to Comment on this Post

  • CREATIVE WRITING

    পরোপকার | মুহাম্মদ আসিফ

    পরোপকার মুহাম্মদ আসিফ   পরের দুঃখ করতে লাঘব রাখব জীবন বাগি জ্ঞানহীনকে জ্ঞান বিলাতে আমরা সবাই রাজি।   অনাহারীর মুখে মুখে খাবার দেব তুলি বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দেব নিজের কথা ভুলি।   অমানিশার অন্ধকারে যে জন পরে থাকে আলোর মশাল হাতে নিয়ে ছুটবো তার দিকে।   ঘোর হতাশায় দিন কেটে যায় বাঁচতে না যে চায় আমরা তার জীবন জাগাই নিত্য নতুন আশায়।   পথহারাকে সঠিক পথের দেব যে সন্ধান জীবন হবে ফুলে ফুলে অক্ষয় আম্লন। Use Facebook to Comment on this Post

  • CREATIVE WRITING

    শুদ্ধ-অশুদ্ধ | জগলুল আহমেদ

    ১. বসে বসে ঘড়ির কাঁটার পদক্ষেপ অনুসরণ । নিতান্ত অলস ছাড়া কেউ এ ধরণের কাজ করে না । রমেশও করে না । আজ করছে । মানুষ খুব বেশি বড় হয়ে গেলে নাকি অতীত ভুলে যায় । রমেশ সেই খোঁয়ারের ভেড়া না । সে বড়ও হয় নি, আর স্মৃতিভ্রষ্টও হয় নি । অতীতগুলো বাঘের মতো আঁচড় বসিয়ে গেছে মনের দেয়ালে । রেখে গেছে গভীর ক্ষত । মাঝেমধ্যে বসে হাত বোলাতে হয় । লোকে বলে,ব্যথা ভুলে যাও; নয়তো সহজভাবে নাও । আর সহজভাবে নিতে হলে পালালে চলবে না, তার সম্মুখীন হতে হবে । জিনিসটা বলাটা অনেক সহজ । সেই গভীর ক্ষতগুলোতে হাত বোলানো যে কতটা যন্ত্রণার ,তা কেবল উপভোগকারীই বলতে পারে; অনুভব…

  • CREATIVE WRITING

    ভালোবাসার গন্তব্য | জাওয়াদুল তাশিক

    ছেলেটির কোনো বিপদের খবর শুনলে, মেয়েটির একটি জাতীয় কর্তব্য ছিল।ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় তার শার্টের কলারটা পুরো ভিজিয়ে দেয়া।সেই ভেজা কলারে ছেলেটির দু ফোঁটা চোখের পানিও হয়ত মিলে যেত। পাগলীটা খুব ভালবাসত ছেলেটিকে।কিছু হলেই খালি কান্না কান্না আর কান্না।খুব মায়া হতো মেয়েটির জন্যে। একদিন ছেলেটি মেয়েটিকে বলেছিল, “আমাকে কখনো শোনাবে না, যে তুমি আমাকে ফেলে যাচ্ছ।জানো?? আমি না সহ্য করতে পারব না। নাহ, একদম পারব না” মেয়েটিকে আবারো সেদিন কাঁদিয়ে দেয় ছেলেটি।সেদিন রাতে খুব কেঁদেছিল মেয়েটি।সে তো এটিই বলতে চেয়েছিল।সে যাচ্ছে। হ্যা, সে সত্যিই যাচ্ছে।দুরারোগ্য ব্যাধির যন্ত্রণায় যখন তার আপাদমস্তক কাঁতর হয়ে উঠে, ছেলেটির কথা ভেবে কেন জানি বাঁচার স্বপ্ন দেখতো।বুকের পাজরে তখনো সামান্য আশা জেগে ছিল। সে বাঁচবে। তাকে…

  • CREATIVE WRITING

    Expriment 8974 | Akib Sarwar

    ১৮/৪/২৮৭৮ আজকের দিনটি আমার ও আমার বান্ধবী মিত্তিকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পেশাদার চোর। যেন তেন চোর না, ইন্টার-গ্যালাক্টিক ক্রাইম লর্ডের নির্দেশে পরিচালিত বিশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত চোর। আমরা অবশ্য এর প্রতিদান হিসেবে ক্রাইম লর্ডকে মাসে ৩ লাখ ইউনিট কর দেই। তাতেই আমাদের বেশ চলে যায়। চুরির ক্যারিয়ার আমাদের খারাপ না। কৈশোরে ফেডারেশন বিদ্রোহীদের জন্য সিকিউরিটি কোড চুরি করেছি, তারুণ্যে প্লুটোনিয়ামসহ বিভিন্ন মূল্যবান মৌল চুরি করেছি। এখন বয়স ১২১ বছর। এই জুবা বয়সে মূল্যবান রত্নের দিকে আমাদের মনোযোগ বেশি। প্রায়ই ইচ্ছা করে কয়েকটা বড় চুরি করে একটা ছোট উপগ্রহ কিনে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেই। সেই বিবেচনায় আজকের চুরিটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্যালাক্টিক হাইকমান্ডের বিশেষ আদেশে একটি বিশাল হীরার চালান…