উচ্চশিক্ষা যখন ম্যাকাওতে | তৌকির আকন্দ

ম্যাকাও? এইটা আবার কোথায়? ইনফ্যাক্ট ম্যাকাওতে পড়তে যাওয়ার আগে আমার নিজেরও তেমন ধারনা ছিল না।
চায়নার মূলত দুইটা স্পেশাল এডমিনিস্ট্রেটিভ অঞ্চলের হংকং একটা, আরেকটা হচ্ছে ম্যাকাও। ম্যাকাও তাহলে চায়নাতে?
টেকনিক্যালি হ্যাঁ, কিন্তু আসলে ম্যাকাও অনেকটা আলাদা আরেকটা দেশের মত! শুধু মাত্র এখানকার মিলিটারী চায়না থেকে, মানে মেইনল্যান্ড চায়না থেকে আগত।
তাছাড়া ম্যাকাও যেতে আলাদা ভিসা লাগে। চাইনিজ ভিসা দিয়ে আপনি ম্যাকাও যেতে পারবেন না। এমনকি চাইনিজ সিটিজেনদেরও ম্যাকাও আসতে ভিসার দরকার হয়।আর ম্যাকাওয়ের আলাদা পতাকাও আছে, পাসপোর্ট ও আলাদা! আয়তনে ম্যাকাও মাত্র ৩০ কিঃমিঃ। আর জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখের মত। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ঘনবসতি এখানে। ম্যাকাওয়ের অফশিয়াল ভাষা দুইটা, একটা ক্যান্টনিজ আরেকটা পর্তুগীজ! তাছাড়া এখানকার কারেন্সি ম্যাকাও পাতাকাস কিংবা মপ হিসেবে পরিচিত।
মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে ম্যাকাও পৃথিবীর চতুর্থ ধনী দেশ( অঞ্চল) ।ম্যাকাওয়ের প্রধান আয় ক্যাসিনো থেকে, এমনকি লাসভেগাস থেকেও বেশি আয় করে থাকে এরা! সেকারনে মাক্যাওতে স্কলারশিপ কিংবা ফান্ডিংও অনেক বেশি!

• স্কলারশিপঃ

১। ম্যাকাও ফাউন্ডেশন স্কলারশিপঃ স্নাতকের জন্য সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস স্কলারশিপ এটা। তবে প্রতিবছর মাত্র একজন/দুজন বাংলাদেশীকে এ স্কলারশিপ দেয়া হয়।
সুযোগ-সুবিধাঃ
টিউশন ফি থেকে শুরু করে থাকা খাওয়া খরচ, পকেট খরচ হিসেবে প্রতি মাসে ২৭,০০০ হাজারব টাকার মত দেয়া হয় এবং প্রতিবছর দেশে আসার জন্য একটি করে রাউন্ড টিকেটের ব্যবস্থা।

এ স্কলারশিপের জন্য বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রলায় থেকে আবাদেন করা লাগে। প্রতিবছর মার্চের দিকে শিক্ষা মন্ত্রলেয়ার ওয়েবসাইটে এ স্কলারশিপের নোটিশ দেয়া হয়ে থাকে।

২। UM Macao PhD Scholarship

পিএইচডি’র জন্য এ স্কলারশিপ এইবার থেকেই নতুন চালু করছে। আমি অলরেডি গ্রুপে দুইটা পোস্ট করেছি।
সুযোগ-সুবিধাঃ এ স্কলারশিপের সুযোগ-সুবিধা হচ্ছে প্রতি মাসে ২০,০০০ মপ দিবে, বাংলাদেশী টাকায় দু’লাখের মত।
বিস্তারিত জানতেঃ https://www.umac.mo/grs/en/admissions_scholarship.php

৩। Research Assistantship

মাস্টার্সে রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট এর পোস্ট পাইলে মাসিক ৮০০০ মপের মত দেয়া হবে।
বিস্তারিত জানতেঃ https://www.umac.mo/grs/en/admissions_scholarship.php

৪। পারফরম্যান্স বেইজড স্কলারশিপঃ এখানে সেমিস্টারে ভাল রেজাল্ট করেলে স্কলারশিপের অভাব হবে না।

• কোন ভার্সিটিতে পড়ব?

১। ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাকাও হচ্ছে এখানকার একমাত্র পাবলিক ইউনিভার্সিটি। টাইমস হায়ার র‍্যাংকিং অনুসারে, ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাকাওয়ের র‍্যাংকিং ওয়ার্ল্ডে ৩৫১ থেকে ৪০০’র মধ্যে। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট অনুসারে র‍্যাংকিং ওয়ার্ল্ডে ১৫১ থেকে ১৭৫’র মধ্যে।
এপ্লাই করবেন যেখানেঃ https://www.umac.mo/study-at-um/admission.html
২। আর যারা হোটেল মেনেজমেন্ট কিংবা ট্যুরিজম নিয়ে পড়তে ইচ্ছুক তাদের জন্য The Institute for Tourism Studies (IFT) রিকোমেন্ডেড। QS World University Rankings by Subject অনুসারে Hospitality and leisure management এ এশিয়াতে IFT’র অবস্থান দ্বিতীয়।
এপ্লাই করবেন যেখানেঃ https://www.ift.edu.mo/EN/Admission/Home/Index/730

• কেমন যোগ্যতা লাগে?

স্নাতকের জন্য এসএসসি আর এইচ এস সি তে জিপিএ ফাইভ আর IELTS এ ৬.৫ পাইলেই হবে। স্ক্ললারশিপের জন্য দুইটাতে গোল্ডেন আর IELTS এ ৭ লাগবে। আর যারা মাস্টার্স কিংবা পিএচডি করতে ইচ্ছুক তাদের ৮০% মার্ক্স প্লাস এটলিস্ট একটা পাবলিকেশন থাকলে ফান্ডিং পাওয়া সহজ হবে। নিজের টাকায় মাস্টার্স করতে চাইলে ৭০% মার্ক্সই এনাফ।

• নিজের টাকায় পড়তে চাইলে খরচ কেমন লাগবে?

১। ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাকাওতে যেমন লাগবেঃ যেহেতু ফি টা মেজর ভেদে ডিপেন্ড করে সেক্ষেত্রে আপনি নিজেই দেখে নিন https://www.umac.mo/grs/en/tuition_fees.php

২। আইএফটিতে যেমন লাগবেঃ বছরে ১৩,০০০ মপ লাগবে।

পার্ট-টাইম করে কি পড়াশোনার করতে পারবো?
না, এখানে পার্ট-টাইম এলাউড না। তবে নিজ নিজ ভার্সিটিতে পার্ট-টাইম এলাউড। এ টাকা দিয়ে পড়াশোনা’র খরচ বহন করা অসম্ভব।

• ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ আছে?

হ্যাঁ, তবে এইটা আপনার একাডেমিক পারফর্ম্যান্সের উপর ডিপেন্ড করে। ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাকাও থেকে দুইটা ইন্টার্নশীপের সুযোগ পাওয়া যায়। একটা ম্যাকাও তে আর আরেকটা ইউরোপে। এই পোস্ট আমি এখন সার্বিয়া বসে লিখছি :p ইন্টার্নশীপে জন্য আমার সার্বিয়া আসা।

• পাশ করার পর ম্যাকাওতে চাকুরি করার সুযোগ আছে?

হ্যাঁ, তবে আপনাকে অনেক ভাল কোয়ালিফাইড হতে হবে। এখনে ফ্রেশ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটের স্যালারী ২০,০০০ মপের মত। ম্যাকাওতে ট্যাক্স নেই বললেই চলে। আপনার মাসিক ইনকাম ১০০০০০ মপের কম হলে ট্যাক্স দেয়া লাগে না।

• পার্মানেন্ট রেসিডেন্সী কিংবা সিটিজেনশীপ পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, তবে অনেক টাফ। শুধুমাত্র উচ্চপজিশন যেমন কোন একটা কোম্পানির ডাইরেক্টর কিংবা ভার্সিটির প্রফেসর হতে পারলেই পাবেন। এখানে ডুয়েল সিটিজেনশীপ এলাউড 🙂

পাওলো কোহেলহো’র একটা উক্তি দিয়ে শেষ করছি “when you want something, all the universe conspires in helping you to achieve it.’’
মনে হচ্ছে অনেক বেশি লিখে ফেলেছি। তারপরেও যদি কারো কোন কনফিউশন থাকে নিচে দেয়া গ্রুপে নক করে জেনে নিয়েন।

Work hard and study abroad!

 

লেখকঃ তৌকির আকন্দ, স্নাতক শিক্ষার্থী, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাকাও বিশ্ববিদ্যালয়।

Use Facebook to Comment on this Post