CREATIVE WRITING

বাবা|ইয়াসির রাফা

#১ কিছুদিন ধরেই রঞ্জুর মন খারাপ। শুধু খারাপ না,ভয়ংকর খারাপ। রিফাত, যে তার সবচেয়ে ভাল বন্ধু, সে তার নতুন সাইকেলটি রঞ্জুকে ধরতেও দেয়নি সেদিন । ‘রিফাত একটা আস্ত ছোটলোক’ মনে মনে ভাবলো রঞ্জু। রিফাতের উপর রাগ থেকেই হোক বা যাই হোক রঞ্জুর মাথায় সাইকেল এর ভূত চেপে বসলো। প্রতিদিন আব্বুর কাছে সাইকেল কিনে দেয়ার জন্য বায়না করে ।

‘সাইকেল কিনে দাও, সাইকেল কিনে দাও’ বলে ঘ্যানর ঘ্যানর করে একদম অতিষ্ঠ করে তোলে বাবাকে। সাইকেল হলো এখন একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান।সাইকেল কিনলে কোথায় কোথায় যাবে, রিফাত কে দেখিয়ে দেখিয়ে চালাবে এইসব চিন্তা করেই আপাতত দিন পার করছে সে। আজ সকালে নাস্তা খাওয়ার সময় বাবাকে আবার সাইকেল এর কথা বলেছিল রঞ্জু।

কিন্তু আব্বু বললেন, ‘আপাতত বন্ধুদেরটা নিয়ে চালানো শেখ , এখন সাইকেল কিনে দেয়া যাবে না’ । কোন মতে চোখের পানি আটকিয়ে ,মুখ কালো করে নাস্তা সেরে স্কুলে এসেছে । এ বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেছে সে। জানুয়ারি মাস, ক্লাস পুরোপুরিভাবে তখনো শুরু হয়নি।

 

#২ আস্তে আস্তে ফেব্রুয়ারি মাস চলে আসলো। ক্লাস শুরু হয়ে গেলো কিছুদিন পর। সহপাঠীরা সব সাইকেল বাগিয়ে সাঁই সাঁই করে যায় আর রঞ্জু বোকার মত তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। চোখ ছলছল করে উঠে। এমন সময় রঞ্জুর বাবা অফিসের কি একটা জরুরি কাজে ঢাকা গেলেন । তার দুদিন পর সন্ধার দিকে হঠাৎ বেল এর টুন টুন শব্দ শুনতে পেল রঞ্জু। বাইরে বের হয়ে দেখে, আব্বু নতুন একটা সাইকেল নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে ! রঞ্জুকে দেখে বললেন ; “হ্যাপি বার্থডে আব্বুজান ” খুশিতে চোখে পানি চলে আসল রঞ্জুর। দৌড়ে গিয়ে বাবাকে ধরে কান্নাই জুড়ে দিল। বাবা বললেন; ‘আরে কাঁদে কেন বোকা ছেলেটা’।

 

#৩ রাতে রঞ্জু তাঁর আম্মাকে বলতে শুনলেন; “আর কিছুদিন পরে কিনে দিতে , এখন তো সাইকেলের খুব একটা প্রয়োজন ছিলনা ওর’ আব্বু বলল; ‘ছেলের জন্মদিন তো আর প্রত্যেকদিন আসে না,সাইকেল পাওয়ার পর ওর মুখের হাসিটা দেখেছো?’

Use Facebook to Comment on this Post