যেমন দেখেছি অমর একুশে বইমেলা | রেজা তানভীর

২১ শে ফেব্রুয়ারী সকাল বেলা এনা পরিবহনে করে মীরসরাই হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই।ঢাকা পৌঁছাতে প্রায় বিকেল তিনটা বেজে যায়। অামরা অাজিমপুরে খালার বাসায় যখন উঠি তখন বিকেল চারটা।দুপুরের ভাত খেতে হয় প্রায় চারটার পরে।বিকালে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় বের হই অমর একুশে বই মেলার পথে। এর অাগে সায়েদাবাদ থেকে যখন অাজিমপুর যাচ্ছিলাম তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা একুশে ফেব্রুয়ারীর অামেজে ভরপুর।সবার হাতে খোপায় ফুল শোভা পাচ্ছে।ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন বর্ণমেলা শোভিত সাদা কালো পোশাক পরে দলবেঁধে ঢাকার রাস্তায় হাঁটছেন। সন্ধ্যার পর অাজিমপুর থেকে রিকশাযোগে বাংলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত বইমেলার দিকে যখন রওনা হই তখন রাস্তায় ছিল প্রচুর জ্যাম।দলে দলে লোকজন বইমেলার দিকে যাচ্ছে।দিনটি ২১ শে ফেব্রুয়ারী হওয়ার কারণে টিএসসি পলাশী মোড় সহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অাশে পাশে ছিল মানুষের প্রচুর ভিড়।অামাদের রিকশা পলাশী মোড়েই অাটকে দেয়া হল।সেখান থেকে এক কিলোমিটারেরও বেশী হাঁটতে হল। অবশেষে সন্ধ্যা ৭ টার কিছু পরে অামরা বাংলা একাডেমীর ১ নং গেইট দিয়ে বইমেলায় প্রবেশ করি।বইমেলায় ঢুকেই মঞ্চে দেখতে পেলাম অাবৃত্তি করছে শিল্পীরা।সেখান থেকে স্টলের দিকে হাঁটা শুরু করলাম।২০ নং স্টলে ছিল প্রেস ইনস্টিটিউটের, সেখানে সাংবাদিকতার বিভিন্ন বই দেখে ভালো লাগলো।সাংবাদিকতার বিভিন্ন বই দেখে বইগুলো কেনার বেশ লোভ লাগলো।সেখান থেকে ৩ টা বই কিনলাম। অারেকটু সামনে এগুতেই দেখি জনপ্রিয় কমিকস ‘উন্মাদ’ এর স্টল।সে স্টলে বসে ছিলেন কার্টুনিস্ট অাহসান হাবীব।অামি তাকে দেখে রীতিমত মুগ্ধ।তাকে প্রথমে খেয়াল করিনি।তিনি যে এখানে বসে ছিলেন সেটা অামাকে অনেক অবাক করে দিয় রীতিমত মুগ্ধতায় ভাসালো।অামি ছবি তুলেছি উনি সহ উনার স্টলে বসা বাকিদের সহ।অামি ‘টাইম ট্রাবলস’ নামে একটা কমিকস কিনে উনাকে সামনে বাড়িয়ে দিলাম অটোগ্রাফ দেয়ার জন্য।উনি অামার নাম জিজ্ঞেস করে ছবি সংবলিত একটা বার্তা দিলেন। তাতে লেখা ছিল ‘তানভীর শুভেচ্ছা’।পরে উনার সাথে একটি সেলফি তুলার কথা বললে উনি বললেন, ‘তুলো তুলো’। তারপর ঘুরে ঘুরে স্টল দেখতে লাগলাম, হরেক রকমের স্টল।কলম খাতা না অানায় স্টলগুলোর নাম লিখতে পারিনি বলে দুঃখিত!অারেকটা স্টল থেকে বেশ কিছু অাইনের বই কিনলাম।রাত নয়টায় স্টল বন্ধ হয়ে যায় সেজন্য সাড়ে অাটটার মধ্যে দোকানপাটের বইগুলো গুছিয়ে ভেতরে ঢুকিয় ফেলছে তারা। ২১ ফেব্রুয়ারী প্রচুর ভিড় ছিল।বাংলা একাডেমী থেকে টিএসসি পর্যন্ত গাড়ি ঘোড়া বন্ধ ছিল।শুধু ছিল মানুষ অার মানুষ।ছুটির দিন অার বিশেষ দিবস হওয়াতে মানুষের ভিড় ছিল উপচেপড়।একুশে ফেব্রুয়ারী একটু দেরী করে মেলায় ঢুকায় সেদিনের মত অার মেলা পুরোটা ঘুরে দেখা হয়নি। পরদিন ২২ শে ফেব্রুয়ারী অাগের দিনের অসমাপ্ত ঘুরে না দেখা অংশগুলো অাবার দেখার জন্য মন অানচান করল।অাবার ২২শে ফেব্রুয়ারী বিকাল চারটায় মেলার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।অামাদের রিকশা অাবার টিএসসিতে অাটকে গেল।অাগের দিনের চাইতে ভিড় একটু কম ছিল বিধায় অাশা প্রকাশ করলাম হয়ত অাজকে বইমেলায় ভালোভাবে ঘুরে দেখা যাবে,উদ্দেশ্য ছিল সেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাব।সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল মাঠে দেখতে পেয়ছি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্টল।ছিল দিকদর্শর স্টল।হরেক রকম বইয়ের প্রকাশনীর স্টল।কোন স্টল ছেড়ে কোন স্টলে যাব সেটা নিয়ে ছিল রীতিমত অস্থিরতা। বিভিন্ন স্টলের সামনে গিয়ে বই নাড়াছাড়া করে বিভিন্ন প্রকাশনীর সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা হয়েছে।যখন যেটা ভালো লেগেছে সেগুলো কিনে নেয়ার চেষ্টা করছি।অামি বইমেলার সবগুলো স্টল দুদিনেও ঘুরে দেখে শেষ করতে পারিনা।তিন চার ঘন্টা পুরো বইমেলায় হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যাথা হয়ে উঠল। সেখানে দেখা হল এক মীরসরাইয়ের এক তরুণ সাংবাদিকের সাথে।সেখানে এক তরূণ লেখকের সাথে পরিচয় হল এবং তিনি জানালেন তার একটি বই প্রকাশ হয়েছে।তিনি তার প্রকাশিত হওয়া বইয়ের স্টলে যাওয়ার অামন্ত্রণ জানালেন। অামি দেখতে পেয়েছি ঢাকার বড় বড় সাংবাদিকদের, তারা বিভিন্ন লেখকের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন এবং স্টল মালিকদের সাথে কথা বলে জানাচ্ছেন দিনে কোন বই কি পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে।তাছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন মিডিয়ার রিপোর্টারদের দেখে ওদেরকে অনেক্ষণ অনুসরণ করলাম।অামি অনুসরণ করলাম তারা কিভাবে সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, কিভাবে রিপোর্টাররা কথা বলছেন।বইমেলায় ছিল প্রচুর প্রিন্ট ও টেলিভিশন মিডিয়ার ভিড়। সবশেষে বইমেলা ঘুরতে ঘুরতে পা ব্যাথা হয়ে গেল এবংসন্ধ্যা অাটটার কিছু অাগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলা থেকে বের হয়ে খালার বাসা অাজিমপুরের উদ্দেশ্যে পথ ধরলাম। এখানে বলে রাখা উচিত ঢাকায় অনুষ্ঠিত অমর একুশে বইমেলা ২০১৭ অামার দেখা প্রথম বইমেলা।প্রত্যেক বছর যাব যাব করে অার যাওয়া হচ্ছিলনা, এবার সেটা পূরণ হল।অামার ডায়েরীপটে লেখা হয়ে থাকবে বইমেলাটি।স্মৃতির পাতায় স্মরণীয় অমর একুশে বইমেলা ২০১৭।

 

লেখক পরিচিতিঃ

রেজা তানভীর,

তরুণ লেখক ও সাংবাদিক।  

Use Facebook to Comment on this Post