কৈশোরে রঙের ফ্যাশন

কৈশোর মানে সবক্ষেত্রেই বাড়তি চাওয়া পাওয়ার হিসাব নিকাশ। কৈশোরের এই সময়টাতে প্রত্যেকটি ছেলে মেয়ে নিজেকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টাকরে। তবে অন্য কোন ক্ষেত্রে ছাড় দিলেও এই বয়সে ফ্যাশনে তারা কোন ছাড় দিতে মোটেও রাজি নন। শুধু এখনকার কথা বলছিনা বেশ আগে থেকেই কিশোর-কিশোরীরা অনেক বেশি ফ্যাশন-সচেতন। এখন তারা সময় ও পরিবেশ বুঝেই তাদের পোশাক নির্বাচন করছে। আর ফ্যাশন হাউসগুলোও কিশোর-কিশোরীদের উপযোগী নানা নকশার পোশাক আনছে।

ফ্যাশন নিয়ে ইচ্ছামতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ঝোঁক কৈশোরে বেশ দেখা যায়। এ নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে মতের মিল না হওয়ার ঘটনাও প্রচুর। বড়দের কাছে যা ‘উদ্ভট’ সেটিই হয়তো তারা বেছে নিচ্ছে স্টাইলিশ হিসেবে এবং ঠিকঠাকভাবে বহন করছে বলে তা দারুণ মানিয়েও যাচ্ছে তাদের। এই বয়সী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্টাইলে তারা ভিন্নতা ও নতুনত্বে বিশ্বাসী। একই সঙ্গে আরামের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় তাদের কাছে। মেয়েরা লেগিংস, পালাজ্জো বা ঢোলা পাজামার সঙ্গে সুতি কাপড়ের কুর্তা এবং লম্বা শার্টই গরমে বেশি পরছে। টি-শার্টের সঙ্গে কোটিও চলছে এখন। ছেলেরা অনেকেই গরমে জিনসের প্যান্ট এড়িয়ে চলছে, বেছে নিচ্ছে সুতি ও গ্যাবার্ডিনের নানা উজ্জ্বল রঙের ফুল প্যান্ট, কখনো বা থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট। এই সময় টি-শার্টই তাদের প্রথম পছন্দ যার কোনোটায় লেখা থাকছে মজার মজার সব স্লোগান, কোনোটার গায়ে আবার আছে প্রিয় কমিক চরিত্র বা সুপার হিরোর ছবি।

শীত এসেছে তাই এখন অন্যান্য পোশাকের চাইতে শীতের জ্যাকেট, হুডি আর ফ্যাশনেবল চাদর বেশ চলছে। এছাড়াও ছেলেদের টি-শার্টে এখন হালকা ও সাদামাটা নকশা চলছে। এ ছাড়া হাফ হাতা সুতির শার্টও এই সময়ের জন্য আরামদায়ক। সুতির চেক শার্টের কলারে নানা বৈচিত্র্য এনেছে দেখা যাচ্ছে। এখন টিনেজাররা ব্যান্ড কলারই বেশি পছন্দ করছে। হলুদ, সবুজ ও লালের মতো উজ্জ্বল রঙের প্যান্ট বেছে নিচ্ছে তারা।

ফ্যাশন হাউস ড্রেসিডেলের ডিজাইনার মায়া রহমান এর সাথে কথা হয়েছিল তার ভাষ্যমতে, এখন মেয়েদের কুর্তা ও টপে ভিন্নতা আনা হচ্ছে কাটিং বা প্যাটার্নের মাধ্যমে। দুই দিকে কোনাকুনি হয়ে ঝুলে পড়া, ওভাল কাট, পেছনে ঝুল বেশি দিয়ে সামনে খাটো এমন নানা কাটের কুর্তা ও টপ কিশোরীরা পরছে। তার সঙ্গে প্যান্ট, লেগিংস বা পালাজ্জো সবই চলবে। খুব আঁটসাঁট নয়, গ গরমে একটু ঢিলেঢালা টিউনিক, পনচো এবং শার্ট বেশি পছন্দ করে কিশরেরা। তবে প্যান্ট ও টপ দুটোই ঢোলা হলে দেখতে ভালো লাগবে না। তাই লেগিংস বা ক্যাপ্রির সঙ্গে ঢোলা টপ এবং পালাজ্জো বা ধুতি ধরনের পাজামার সঙ্গে একটু আঁটসাঁট কুর্তা বা শার্ট পরা যেতে পারে।
গরমে গোলাপি, আকাশি, পিচ ও সবুজের মতো রঙের পাশাপাশি নানা নিওন রঙের পোশাকও বেছে নেওয়া যেতে পারে। চলবে কালার ব্লকিংও। এখন যে ধরনের পোশাকের চল এসেছে তার সঙ্গে চটি স্যান্ডেল ও ব্যালেরিনা শু বেশ মানিয়ে যাবে, বললেন ফ্যাশন ডিজাইনার মাহিন খান। গলায় বড় মালা বা ‘ফাংকি’ কোনো পেন্ডেন্ট এবং কানে ছোট টপ অথবা বড় রিং পরার পরামর্শ দেন তিনি। মেয়েদের পাশাপাশি এই বয়সী ছেলেদেরও এখন বড় ডায়ালের রঙিন বেল্টের ঘড়ি পরতে দেখা যাচ্ছে।

কন্ট্রিবিউটরঃ আমান উল্লাহ সরকার, ফ্যাশ্ন বিষয়ক লেখক।

Use Facebook to Comment on this Post