বেনিফিট অব ডাউট | মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়

সেই কবে স্কুলের মাঠে, বাসার সামনের গলিতে ব্যাট আর টেপটেনিস বল হাতে দাবড়ে বেড়িয়েছেন, ব্যাস্ত জীবনের কোন এক অবসরে এখনো হয়তো সেই স্মৃতি আপনার ঠোঁটের কোনে এনে দেয় মুচকি হাসি। কিন্তু নিজে না খেললেও টিভিতে কোন ক্রিকেট ম্যাচই মিস করতে চাননা, আর নিজের দেশে খেলা হলে ত কথাই নেই। ব্ল্যাকে কয়েকগুন বেশী দাম দিয়ে টিকিট কেটে হলেও দেখতে হবে। কারন ত্রিকেটটা এখন আমাদের রক্তে মিশে গেছে। ক্রিকেট নিয়ে নানারকম লেখা পড়েছেন নিশ্চয়ই! পত্রিকার খেলার পাতায়, সাক্ষাৎকার সংকলনে, কিংবা প্রিয় ক্রিকেটারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে? জেনেছেন তাদের ভালো লাগা, খারাপ লাগা, সুসময়, দুঃসময় এবং প্রেরণার গল্প। ক্রীড়া সাংবাদিকদের নিপুন বর্ণনায় ম্যাচ রিপোর্ট পড়ে হয়েছেন শিহরিত। জেনেছেন মাঠের খেলার পাশাপাশি বাইরের নানারকম ঘটনা, গুজব, দ্বন্দ্ব ইত্যাদি। কিন্তু কখনও কি ‘পিচ’ এর সাথে ব্যাট, বল, স্ট্যাম্প, হেলমেট, গ্যালারি, মাঠের ঘাস, বাউন্ডারি রোপ ইত্যাদির আলাপন পড়েছেন? তারাও যে খেলা নিয়ে ভাবে, উদ্বিগ্ন হয়, তর্ক করে, খুনসুটিতে মেতে উঠতে পারে তা জেনেছেন?  “বেনিফিট অফ ডাউট” গ্রন্থটিতে লেখক এভাবেই ক্রিকেটের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র চরিত্রগুলোর সৌন্দর্য অন্বেষণের পাশাপাশি প্রখর যুক্তিতে সমালোচনা করেছেন সেসব জিনিসের, যা কিছু ক্রিকেটের জন্যে অকল্যাণকর। ভেঙে দিয়েছেন অনেক জনপ্রিয় মিথ। শুধুমাত্র পরিসংখ্যান, স্কোর এবং আবেগের মিশ্রণে জনপ্রিয় ক্রিকেটীয় সাহিত্য রচনার চেনা পথে না হেঁটে লিখেছেন বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি, বানিজ্যীকরণ, মিডিয়া এবং গণ মনস্তত্ত্ব নিয়ে। এক অদ্ভুত এবং কৌতুহল উদ্দীপক ফরম্যাটে এগিয়ে নিয়ে গেছেন লেখা কে, যা পাঠক কে সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা দেবে। পরম মমতা এবং শ্রদ্ধায় চিঠি লিখেছেন ক্রিকেটের বর্ণিল চরিত্রদের কাছে, আবার বেরসিক এবং কাঠখোট্টা ভঙ্গিতে তাদের ভুল গুলোও নিবন্ধিত করতে ভোলেন নি। বিচিত্র এক্সপেরিমেন্ট এবং বিদগ্ধ ভাবনায় পূর্ণ বইটি পাঠককে এক অন্যরকম এবং অনন্য এক ক্রিকেট অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করবে। অনেক বর্ণাঢ্য এবং স্মরণীয় ক্রিকেট ম্যাচের স্মৃতিতে ভাস্বর করবে, এবং বর্তমান ক্রিকেট কালচার নিয়ে ভাবাবে।

Use Facebook to Comment on this Post