আমার ঈদ | রেজা তানভীর

ঈদের দিন খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে গোসল করে ফ্রেশ হলাম। আম্মু সেমাই খেতে দিল,দীর্ঘ ত্রিশ দিন রোজা রাখার পর দিনে প্রথমবারের মত মিষ্টি জাতীয় কিছু মুখে দিলাম।সামন্য একটু সেমাই খেয়েই ঈদের নতুন পাঞ্জাবীটা পরে নিলাম সেই সাথে পায়জামা ও জুতোও।ঈদগাহে নামাজ পড়তে যাচ্ছি, চারদিকে তরুণ,কিশোর এবং বৃদ্ধদের মাঝে সাজ সাজ রব।সবার গায়ে নতুন জামা।ঈদগাহের আশে পাশে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাচ্ছাদের খেলনার পসরা বসিয়েছে অনেকে,ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নতুন নতুন খেলনা কেনার জন্য বায়না ধরেছে তাদের বাবা কিংবা বড় ভাইয়ের কাছে। সুন্দর সুন্দর মুহূর্তগুলো অনেকেই ক্যামেরাবন্দি করছে তাদের প্রিয়জনের সাথে,সেই সাথে অনেকে সেলফি তুলছে তাদের বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজনের সাথে। যথারীতি ঈদগাহে নামাজ পড়ার জন্য হাজির হলাম , সেখানেও অনেকে দলবেঁধে ছবি তুলছে।সুন্দর সুন্দর মূহুর্তগুলোকে স্মৃতির পাতায় তুলে রাখছে। ঈদের দিন সারা বছর যাদেরকে দেখি নাই তাদের অনেককেই দেখেছি।তাদের সবাই কর্মসূত্রে এলাকার বাইরে থাকেন।ঈদ উপলক্ষে তাদের অনেকের সাথেই শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ ঘটে,কোলাকুলি হয়। ঈদগাহে অনেকের সাথে কোলাকুলি করলাম যাদের অনেকের সাথে দেখা হয়েছিল গত বছর ঈদে।মুরুব্বি শ্রেণীর কাউকে কাউকে পায়ে ধরে সালামও করলাম। ঈদের নামাজ পড়ে মুরুব্বিদের কবর জেয়ারত করলাম।এরপর বন্ধুদের সাথে বাইরে হালকা নাস্তা করে বাড়ির পথ ধরলাম, বাড়ির সবাইকে সালাম করে মায়ের হাতের বিরিয়ানি খেলাম। দুপুরে আব্বুর মেহমান ও বিকেলে কাজিনদের সাথে আড্ডা ও ছবি তুললাম। সন্ধ্যায় পাড়ার গলির বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে বাড়িতে যখন ফিরলাম তখন অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়লাম।সারাদিনে বড় ছোট অনেকের সাথে কোলাকুলি করেই সম্ভবত ক্লান্তির ছাপ চলে এসেছিল শরীরে।শেষে বাসায় যখন ফিরি তখন রাত ১০ টা বাজে।রাতের ভাতটা খেয়ে শুয়ে পড়লাম আর আমার জীবন থেকে চলে গেল আরো একটি ঈদ।

লেখক পরিচিতিঃ

রেজা তানভীর, কিশোর সাংবাদিক ও লেখক।

Use Facebook to Comment on this Post