একজন পাগলের দৃষ্টিতে ডিপ্রেশন: প্রলাপ-১ | উচ্ছাস তৌসিফ

Feeling blue
শুরুর আগে:
আমি নিজে অনেক সময়ই ভয়াবহ ডিপ্রেশনে ভুগি। এমনিতে এই নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। মাথা খারাপের মত অবস্থা নিয়ে কথা বলতে কার ভাল লাগে? তাছাড়া আমার নিজের কোন ডিগ্রিও নেই যে এই নিয়ে প্রফেশনালি কথা বলতে পারব। কিন্তু আজকাল ডিপ্রেশন জিনিসটা নিয়ে সবার চিন্তা-ভাবনা দেখে আমার মনে হয়, এই নিয়ে টুকটাক কথা বলাই যায়। এখানে আমি যা বলব, এসবই আমার নিজের মতামত। আপনি যদি প্রফেশনাল মতামত চান, এই জিনিস আপনার না পড়াই ভাল। অ্যামেচার মতামত দিয়ে কাজ চালানোর প্রথম কথা হচ্ছে, আপনি নিজেই একবার নিজের ডিপ্রেশন কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে দেখতে চান কিনা। চাইলে, চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তারপর নাহয় ভাববেন, আসলেই প্রফেশনাল কারো হাতে নিজেকে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা! এই লেখাটা খুব বেশী গুছানো হবে না। আমি নিজে এলোমেলো মানুষ, এটাই প্রধান কারণ। কিন্তু এইটুকু এলোমেলো চিন্তা আপনার জন্য কোন সমস্যা তৈরি করবে না, এটুকু বলে দেওয়া যায়। আমি একেবারে বেসিক কিছু কথা লিখতে চাই, যেগুলি প্রায় সবাই জানেন। ব্যাপারটা দৃষ্টিভঙ্গির। আমি শুধু বলতে চাই, এভাবেও দেখা যায়। এবং এভাবে দেখলে আপনার জন্য অনেক জটিল জিনিস সহজ হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এই লেখা পড়ে অনেকেই হাসাহাসি করবেন। তবু লেখব, কারণ এই লেখা বিশেষভাবে কয়েকজনের কথা মাথায় রেখে আমি লিখতে বসেছি। লেখাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাদের পয়েন্ট জিরো জিরো জিরো সামথিং পার্সেন্ট লাভ হলেও আমি এই সুযোগটা নিতে চাই।
০। ডিপ্রেশন কী?
আসলে আপনার ইচ্ছামত কোন কিছু না হলে প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ থেকে শুরু করে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া পর্যন্ত সব কিছুই ডিপ্রেশন আগেই বলেছি, এটা প্রফেশনাল সংজ্ঞা না। টেক্সট বুকে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু আমার হিসেবে এসবই ডিপ্রেশনের মধ্যে পড়ে।
০.১) মূল কারণ:
) অতিরিক্ত আশা, সব কিছু নিজের ইচ্ছেমত হোক- এমন ভাবা
) অতিরিক্ত বিশ্বাস।
) কোন কিছুতে না বলতে পারা।
) নিজের ভ্যালুর ব্যাপারে অসচেতনতা।
) পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রদ্ধাবোধের অনুপস্থিতি। আরো কিছু থাকলে, পরে মনে পড়লে যুক্ত করে দেব।
ক) অতিরিক্ত আশা:
১.১) পাঠ্যপুস্তকের বাইরে:
প্রথম কথা হল, পাঠ্যপুস্তকের মত করে চিন্তা করা ছেড়ে দেন। ওনারা বলেন, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। এই কথা সবসময় সত্যি না। ইচ্ছে থাকলেও আপনি অনেক ক্ষেত্রেই কিছু করার উপায় খুঁজে পাবেন না। শুরুতেই এটা মেনে নেওয়া ভাল যে, আপনি সুপারম্যান না। আপনি চাইলেই যে কোন কিছু করতে পারবেন না। আপনি যেহেতু মানুষ, আপনার সীমাবদ্ধতা থাকবেই। কাজেই, নিজের সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই আপনাকে হিসেব করতে হবে, আপনি কোন ক্ষেত্রে কতটুকু আশা করতে পারেন। কিংবা কোনসব জিনিস আপনার আশা করা উচিৎ না।
১.২) সবসময় আশা পুষে না রাখা ভাল:
“আশা” জিনিসটা ভয়াবহ জিনিস। নাটক-সিনেমায় “হোপ” বলে বলে আশা জিইয়ে রেখে শেষে এসে যেভাবে হ্যাপি এন্ডিং দেওয়া হয়, বাস্তব জীবনে এই জিনিস বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কাজে আসে না। ধরুন, আপনার বাবা-মা ডিভোর্স ছাড়াই সেপারেট হয়ে গেছেন। আপনি হয়তো আশা করবেন, তারা আবার একটা সময় একত্রে এসে বসবাস শুরু করবেন। এ ধরণের আশা না করাই ভাল। কিংবা ধরুন, আপনার প্রেমিকা আপনাকে শেষ কথা বলে দিয়েছে। বলেছে যে, তার কাছে মনে হচ্ছে না যে, এই সম্পর্ক রাখা উচিৎ। দয়া করে এমন কোন আশা মনে রাখবেন না যে, সে আবার ফিরে আসতেও পারে! জীবনটা সিনেমা না। এবং আপনি নায়কও না। (১.১) এর একটা ভাল উদাহরণ এটা যে, আপনি চাইলেও আপনার প্রেমিকাকে ফিরিয়ে আনার কোন উপায় খুঁজে বের করতে পারবেন না। মানুষ মরে গেলে আমরা ধাক্কা খাই। কিন্তু সেটাকে আমরা খুব সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারি কারণ, যে চলে গেছে, আমরা তার ফিরে আসার আশা পুষে রাখি না। এগিয়ে যাই। কেউ ছেড়ে গেলে আমরা আশা পুষে রাখি যে, সে নিশ্চয়ই ফিরে আসবে। এই পুষে রাখা আশা আমাদেরকে নিশ্চল করে ফেলে। এই ধরণের আশা পুষে না রাখাই ভাল।
১.৩) তাহলে কী আশা করাই ছেড়ে দেওয়া লাগবে?
না। আশা মানে, নিজের করার আছে, এমন কোন কিছু নিয়ে আপনি স্বপ্ন দেখতেই পারেন। আপনি চান যে, আপনি একদিন নাসার অ্যাস্ট্রোনট হবেন। কিংবা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কোন সমস্যা নেই। কারণ, এগুলোর ব্যাপারে আপনার যা করা দরকার, সেগুলি আপনি করেন নি। কিন্তু ধরুন, কালকে বিসিএস পরীক্ষা। ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আপনি। কিন্তু আপনার অনেক কিছুই পড়া বাকি। সোজা হিসাবটা হল, আপনি আপনার সর্বোচ্চটুকু করার পর সেটা নিয়ে চিন্তা বা দুশ্চিন্তা করা ছেড়ে দেন। স্বপ্নই দেখেন কিংবা দুশ্চিন্তাই করেন, দুটোই আপনার জন্য সমস্যা তৈরি করবে।
১.৪) তাহলে আসল কথাটা কী?
কোন কিছু নিয়ে অতিরিক্ত স্বপ্নও দেখবেন না আবার দুশ্চিন্তাও করবেন না। যদ্দুর করার সাধ্য আছে, ততটুকু করে ছেড়ে দেন। বাকিটুকু এমনিতেই হবে। কতক্ষণ ছুটতে হবে, কখন থেমে যেতে হবে- এটা বুঝাটা জরুরি। আপনার হাতে যখন কিছু নেই, সেটা নিয়ে মনে বাড়তি আশা পুষে না রেখে স্বপ্নের ঘোড়াটাকে লাগাম পরিয়ে দেওয়া ভাল। অযথা ছোটা থামিয়ে দেওয়া ভাল।
এইটুকু মাথায় রাখলেই অনেক সহজ হয়ে যায় অনেক কিছু।
(চলবে…)

Use Facebook to Comment on this Post