তুতেনখামেনের মহাজাগতিক ‘ড্যাগার’

মিশরের পিরামিড নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। সেই দীর্ঘ রহস্যের তালিকায় এবার যোগ হলো তুতেনখামেনের ‘ড্যাগার’ বা ছুরি। কিন্তু রহস্যটা কোথায়? প্রথম রহস্য হলো ছুরিটি লোহার তৈরি। ছুরিটি নিয়ে যারা বিভিন্ন রকমের গবেষণা করেছেন, সেই বিজ্ঞানীরা বলছেন, তুতেনখামেনের সময় মিশরে লোহার তৈরি জিনিসপত্র ছিল না বললেই চলে। লোহার প্রচলন সেখানে তখনও শুরুই হয়নি সেভাবে। কিন্তু ৩৩০০ বছরে আগের রাজা তুতেনখামেনের মমিতে যে ছুরিটি পাওয়া গেছে, সেটা রীতিমতো উন্নতমানের লোহা দিয়ে তৈরী। হাতলটি সোনার। এতে আবার পাথরের কাজ করা। রীতিমতো আধুনিক লোহার কারুকাজ। আরও মজার ব্যপার হলো লোহাতে মরিচা পর্যন্ত পড়েনি। দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে বড় রহস্য হলো ছুরিতে যে লোহা ব্যবহার করা হয়েছে সেটা। এক্স-রে সহ আধুনিক সব ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা গেছে লোহাটি পৃথিবীর নয়। এতে বিভিন্ন ধাতব বিশেষ করে নিকেলের যে পরিমাণ- তা পৃথিবীর কোন লোহাতে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ তুতেনখামেনের ছুরিতে ব্যবহৃত লোহাটি মহাজাগতিক। তুতেনখামেনের সমাধি এই সূত্রে পিরামিডের আশপাশে ব্যাপক অনুসন্ধান চালান বিজ্ঞানীরা। রহস্যের সমাধানও পেয়ে যান তারা। লোহিত সাগরের মিশর উপকূলে একটি উল্কার সন্ধান পান তারা। সেই উল্কাপিণ্ডতে পাওয়া লোহা পরীক্ষা করে মিল পাওয়া গেছে তুতেনখামেনের ছুরির লোহার সাথে। অর্থাৎ উল্কাপিণ্ড থেকে লোহা সংগ্রহ করে সেটি দিয়ে বানানো হয়েছে তুতেনখামেনের ছুরি। এ সব বিবেচনা করেই বেশ কিছু অনুসিদ্ধান্তে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন মহাজাগতিক যে কোন কিছুকে মহান বিবেচনা করতো তুতেনখামেনের মিশর। সেগুলিকে তারা বিবেচনা করতো সৃষ্টিকর্তার উপহার হিসেবে। এমনকি সাধারণের জন্য সেই সব পাথর বা ধাতব বস্তুর ব্যবহারও ছিল নিষিদ্ধ। তবে অনুসিদ্ধান্ত দিলেও বিস্ময় পুরো কাটছে না বিজ্ঞানীদের। তাদের ধারণা, এমন সুক্ষ্ম কারুকার্যের ছুরি যে সময় বানানো হয়েছে, তাদের সভ্যতা সংস্কৃতির অনেক কিছুই নিশ্চিত অজানা রয়ে গেছে এখনও।

Use Facebook to Comment on this Post