ভালোবাসার গন্তব্য | জাওয়াদুল তাশিক

ছেলেটির কোনো বিপদের খবর শুনলে, মেয়েটির একটি জাতীয় কর্তব্য ছিল।ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় তার শার্টের কলারটা পুরো ভিজিয়ে দেয়া।সেই ভেজা কলারে ছেলেটির দু ফোঁটা চোখের পানিও হয়ত মিলে যেত। পাগলীটা খুব ভালবাসত ছেলেটিকে।কিছু হলেই খালি কান্না কান্না আর কান্না।খুব মায়া হতো মেয়েটির জন্যে। একদিন ছেলেটি মেয়েটিকে বলেছিল, “আমাকে কখনো
শোনাবে না, যে তুমি আমাকে ফেলে যাচ্ছ।জানো?? আমি না সহ্য করতে পারব না। নাহ, একদম পারব না” মেয়েটিকে আবারো সেদিন কাঁদিয়ে দেয় ছেলেটি।সেদিন রাতে খুব কেঁদেছিল মেয়েটি।সে তো এটিই বলতে চেয়েছিল।সে যাচ্ছে।
হ্যা, সে সত্যিই যাচ্ছে।দুরারোগ্য ব্যাধির যন্ত্রণায় যখন তার আপাদমস্তক কাঁতর হয়ে উঠে, ছেলেটির কথা ভেবে কেন জানি বাঁচার স্বপ্ন দেখতো।বুকের পাজরে তখনো সামান্য আশা জেগে ছিল। সে বাঁচবে। তাকে বাঁচতে হবে। ছেলেটির জন্য বাঁচবে।
কিন্তু সংকল্পে আর কতদিন দৃঢ় থাকা যায়? এই মুক্তিটাকে আটকে রাখার ক্ষমতাটা হয়ত কোনো মানবের কাছেই নেই।সে যতই চায় না কেন, পৃথিবীর মায়াজাল থেকে একদিন মুক্ত হবেই। একদিন ক্ষণ এল।মুক্তির ক্ষণ।মেয়েটিকে ঘিরে আজ কান্নার রোল।নিশ্চুপ নিথর দেহটা নিয়ে পড়ে আছে সে।আজ তার কান্না পাচ্ছে না।

ছেলেটিকে না বলেই ত্যাগ করল পৃথিবী।ছেলেটির বারণ ছিল। হয়ত এজন্যই। ঐদিকে ছেলেটি আজ হাসিমুখে পরিকল্পনা করছিল।মেয়েটিকে আজ তার জীবনসঙগী করার প্রস্তাব জানাবে।মেয়েটির প্রতি তার মায়া হতো ঠিকই, তার মায়ার এমনপ্রতিদান তাকে দিতে হবে তা সে ভাবতেও পারে নি।সেদিন খুব কেঁদেছিল সে। পাগলের মতো কেঁদেছিল।ঠিক যেমন মেয়েটি কেঁদেছিল।খুব কেঁদেছিল।
শার্টের কলার গুলো আর কান্নায় ভিজবে না।কোনো এক ঘরের জানালার দিকে তাকিয়ে ছেলেটির দু চোখগুলো কান্নায় ভিজে উঠতো।ঘুমানোর সময় তিন-চার ফোঁটা চোখের জলের ছাপ বসে থাকত তার মুখে। মুক্তিটা আজো তার কাছে নিষ্ঠুর।খুব নিষ্ঠুর। স্মৃতি নিয়ে নির্বাক ধরণীর বুকে সে আজ ভালবাসার অগণিত মৃতগল্পগুলোর কোনো একটির অসংজ্ঞায়িত অংশ। “ভালোবাসি” কথাটা আর পুণরাবৃত্তি করা হয়নি তার।মুক্তিটা আজ মুক্ত করে দিয়েছে ভালবাসাটিকে।সে আর ভালোবাসাটিকে অজানার পথে খুঁজবে না।

Use Facebook to Comment on this Post