Expriment 8974 | Akib Sarwar

১৮/৪/২৮৭৮
আজকের দিনটি আমার ও আমার বান্ধবী মিত্তিকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পেশাদার চোর। যেন তেন চোর না, ইন্টার-গ্যালাক্টিক ক্রাইম লর্ডের নির্দেশে পরিচালিত বিশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত চোর। আমরা অবশ্য এর প্রতিদান হিসেবে ক্রাইম লর্ডকে মাসে ৩ লাখ ইউনিট কর দেই। তাতেই আমাদের বেশ চলে যায়।
চুরির ক্যারিয়ার আমাদের খারাপ না। কৈশোরে ফেডারেশন বিদ্রোহীদের জন্য সিকিউরিটি কোড চুরি করেছি, তারুণ্যে প্লুটোনিয়ামসহ বিভিন্ন মূল্যবান মৌল চুরি করেছি। এখন বয়স ১২১ বছর। এই জুবা বয়সে মূল্যবান রত্নের দিকে আমাদের মনোযোগ বেশি। প্রায়ই ইচ্ছা করে কয়েকটা বড় চুরি করে একটা ছোট উপগ্রহ কিনে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেই। সেই বিবেচনায় আজকের চুরিটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গ্যালাক্টিক হাইকমান্ডের বিশেষ আদেশে একটি বিশাল হীরার চালান আসছে। ব্ল্যাক মার্কেটে কয়েক কোটি ইউনিট অনায়াসে পেয়ে যাব। অ্যান্ড্রোমিডার পিছনের গ্রহপুঞ্জে বিক্রি করলে আরও বেশি পাব। আজকের এই চুরিটা আমাদের স্বপ্নপূরণে অনেক বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে।
“কি হল আবার বসে গেলে রিদার নিয়ে? আজকের দিনেও তমার হেঁয়ালি?”
“নাহ, এটা তো আমি গত ৮৫ বছর ধরেই করছি। প্রতিটা চুরির কথা একেকটা মেমোরি। দেখ, আমাদের অবসরের সময় এগুলো পড়ে মজা পাবে।“
“সেটা পরে দেখা যাবে, এখন রেডি হও… ওঠ…।”
__________________________________________________________
তৃতীয়বারের মত আমি তালিকাটি পরীক্ষা করতে গেলাম, “সব নিয়েছ?”
“হু।”
“একবার মিলিয়ে নেই…।”
মিত্তিকা এবার তার বায়োপলিমারের মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটিয়ে বলল, “আবার যদি ঐ ৩৫৪ আইটেমের লিস্ট চেক করতে বল Then I swear, I’m goanna rip up y power system।”
“Ok, Ok just to make sure baby.”
মিত্তিকার মত জেমিনয়েড রোবটগুলো মানুষের খুব কাছাকাছি। চঞ্চল কিশোরীর মত ছিপছিপে দেহ, রেশমের মত চুল, স্ফটিকের মত শুভ্র হাসি। হোক না সে রোবট, থাক না তার মনের স্থলে একটা ধাতব প্রসেসর। এমনিতেও আজ ১০০% মানুষ আছে নাকি? খুঁজেও তো বড়জোর ১০% মানুষ পাওয়া যায়। সেখানে মিত্তিকা হোক না ১০০% রোবট, হোক না একটু জেদি। কিন্তু আমার প্রোসেসিং ইউনিটে তো কেবলমাত্র ওর কোডিংই ম্যাচ করে। আগে যখন ১০০% মানুষ ছিল তারা নাকি একে ভালোবাসা বলত। হয়ত তাই, আমি মিত্তিকাকেই ভালোবাসি। তাছাড়া ও তো ৪র্থ পর্যায়ের রোবট না ৫ম পর্যায়ের হাইব্রিড রোবট। তার উপরে কাস্টম মেড। ৪র্থ পর্যায়ের রোবটকেই মানুষের সম্মান দেয়া হয় সেখানে ও তো মানুষের চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। মিত্তিকা চাইলেই আজ রুকুন গ্রহপুঞ্জে কোটিপতি রোবট আর হাইব্রিডদের সাথে বিলাসী জীবন যাপন করতে পারত। কিন্তু সে আমাকে ছেরে যায়নি। হয়ত মিত্তিকার মেমোরি ড্রাইভের একটা ডিস্ক শুধুই আমার জন্য, হয়ত ওর প্রসেসরও আমার কোডিং এ বিট করে। হয়ত আমার মত সেও ঘোলাটে বায়ুমণ্ডলের লালচে মেঘের আড়ালে ২টি চাঁদের কোন এক্টির দিকে তাকিয়ে আমার সাথে কাটানো সময়ের ডাটাগুলোকে রি-প্রসেস করে।
__________________________________________________________
“তুমি মেইন কম্পিউটারের সিকিউরিটি প্রটোকল চেক কর, make sure nobody watches us। আমি এই লকটা দেখছি।“ ৩১৫ তলার জানালার কার্নিশে কার্বন ফাইবার দড়িতে ঝুলে মিত্তিকা কে বললাম।
“I already got this, they are watching what we want। তুমি লকটা দেখ।“
আমি আবার ফিরে ইনফ্রারেড লেজার দিয়ে ভিতরের লক-প্যাড এর সাথে যোগাযোগ করতে থাকলাম। মোট ৫ম বার সঠিক কোড দিতে পারলাম।
“হয়েছে, let’s hope nobody else’s sneaking in।” নিজের স্থূল রসিকতায় নিজেই হাসলাম। অতঃপর বারান্দার দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার সময় মিত্তিকাকে বললাম,“বোকাগুলো কেমন ভল্ট ডিজাইন করেছে? এত কম সিকিউরিটি সিস্টেম, আরে এত বড় অ্যাসেট! Something doesn’t feel ok।”
“ আমারও অদ্ভুত লাগছে, দেখি কি হয়। আমাদের তো ১২ টা ব্যাকআপ প্ল্যান আছে। Everything is goanna be ok. Just stick with the plan।”
প্রথমে সিস্টেমকে গালি দিলেও পরে দেখলাম সিস্টেম এতটাও সহজ না। নিজেদের প্রোসেসিং ইউনিট ফায়ারওয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলার পরও বাড়তি সিকিউরিটি সিস্টেম ব্যাবহার করতে হল। প্রচুর অ্যালার্ম আর বুবি ট্র্যাপ পার করে কোনমতে ভল্টের সামনে পৌছালাম।
ভল্টটা ৭ম জেনারেশনের ভল্ট হবার কথা। ৬ ইঞ্চি ষ্টীলের দেয়াল। কিন্তু এটার ১২ ইঞ্চি ষ্টীলের দেয়াল। লক সিস্টেমের ও কোন ঠিকঠিকানা নেই। খুবই আলাদা কন্ট্রোল। কোনমতে ১৩ নম্বর আইসিটা ঠাণ্ডা করে মিত্তিকাকে বললাম, “This is just crazy। ১২ ইঞ্চি ষ্টীল কিভাবে কাটব?”
“ইনফ্রারেড লেজার। দুইজন দুই দিক দিয়ে শুরু করি। ইনফ্রারেড টর্চ কয়টা আছে?”
“৪ টা।“
“হয়ে যাবে, শুরু কর।“
__________________________________________________________
পুরো ৩০ মিনিট ধরে কাটার পর হীরাগুলো নিয়ে নেমে আসার সময় বিল্ডিংটার নকশায় একটা ভুল করে ফেললাম। ভুলে ঢুকে পড়লাম কোন একটা ঘরে। সেটা দেয়ালের সমান্তরালে বসান। অনেকগুলো মনিটর আর কি-বোর্ড। তাতে একটা খুব অদ্ভুত চিহ্ন আঁকা। পরিচিত লাগছিল যদিও কিন্তু চিনতে পারছিলাম না।
“ভুল করে কন্ট্রোল রুম এ ঢুকে পড়লাম নাকি?”
“আমি কি জানি? এই বিল্ডিং এর নকশা আমার ১৩ নম্বর আইসিটা পুড়িয়ে দিচ্ছে।“
এরই মধ্যে পুরো বিল্ডিংটা কাঁপতে শুরু করল। মিত্তিকা এবার খুবই বিরক্তভাবে বলল, “Come on, no earthquake is possible in this god damn planet। শুকনো কেন্দ্রের গ্রহে earthquake কিভাবে হচ্ছে?”
“এটা ভূমিকম্প না।“
“তাহলে?”
“এটা একটা টাইম পোর্টালের গবেষণা কেন্দ্র। আমরা ভুল তথ্য পেয়েছি। ঐ দেখ, সেনাবাহিনীর বিজ্ঞান বিভাগের সিল।”
মিত্তিকা ওর বায়োপলিমারের মুখটা ফ্যাকাসে করে বলল, “এখন কি হচ্ছে এখানে?”
“আমি জানি না, হয়ত আমরা কোন সিস্টেম চালু করে দিয়েছি। কিছু একটা হতে পারে।“
পুরো বিল্ডিংটি প্রবল ভাবে কাঁপতে থাকল। আমার মনে হল, টাইম পোর্টালের গবেষণায় হীরা দিয়ে কি করবে? আর ব্যাগটা কেমন যেন ভারী-ভারী মনে হচ্ছে। নিজের অজান্তেই ব্যাগটা খুলে ফেললাম।
__________________________________________________________
“স্যার, কোন উজবুক ডার্ক ম্যাটার চুরি করতে যাবে?” গবেষণার ডাইরেক্টর অবাক হয়ে প্রফেসর রিশানকে বলল।
প্রফেসর ল্যাবরেটরির কম্পিউটারের লগ পরীক্ষা করতে করতে বললেন, “যদি তারা জানত তবে তা করতে যেত না। কিন্তু এখানে চুরি করা হয়েছে। দেখ, ভিন্ন দুইটা ডিএনএ স্যাম্পল রয়েছে এখানে।“
“কিন্তু স্যার আমরা তো হ্যাক হওয়ার ২ মিনিটের মধ্যে বিল্ডিং ঘেরাও করে ফেলেছিলাম। কেউ আসলেও তারা বের হবে কিভাবে? আর চুরি করলেও তারা টাইম পোর্টাল চালু করবে কেন?”
“আমি জানি না তবে…” প্রফেসর একটা ক্রূর হাসি হেসে বললেন, “আমরা আমাদের বলির পাঁঠা পেয়ে গিয়েছি মিঃ ফ্লিচার। তারা যেই হোক না কেন। তারা বাস্তব জগতের স্বাপেক্ষে অতীত আর বর্তমানের মাঝে আটকে গেছে। আমরা এখন অনন্তকাল ওদের উপর টাইম কলিউশন নিয়ে গবেষণা করতে পারব।“
ফ্লিচার সবকিছু বুঝে ফেলার ভান করে বলল,“জি স্যার, আমাদের জন্য এটা অনেক বড় সাকসেস।“
“বোকার মত কথা বলবে না। এতে আমাদের কোন সাকসেস নেই। ওদের বোকামি আছে। আর আছে বিজ্ঞান একাডেমীর কয়েক কোটি ইউনিট।“
একটু থেমে তিনি বললেন, ”যাও কাহিনীটা চাপা দেয়ার ব্যাবস্থা কর। আমাদের ফেডারেশনকে যুদ্ধে হারাতেই হবে। আমাদের গবেষণার কিছু যাতে ফাঁস না হয়।“
ফ্লিচার মুখ নিচু করে বের হয়ে গেলেন। বাইরে দাঁড়ান সিকিউরিটি অফিসার তাঁকে জিজ্ঞেস করল, “স্যার সব ঠিক আছে?”
“কিসের ঠিক? নিজের কাজ কর যাও।“ তিক্ত দৃষ্টিতে ল্যাবরেটরির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললেন, “দুইদিনের বিজ্ঞানীর ভাব দেখ। আমিও দেখি তুমি কি কর।“

__________________________________________________________
“কি হল আবার বসে গেলে রিদার নিয়ে? আজকের দিনেও তমার হেঁয়ালি?”
“নাহ, এটা তো আমি গত ৮৫ বছর ধরেই করছি। প্রতিটা চুরির কথা একেকটা মেমোরি। দেখ, আমাদের অবসরের সময় এগুলো পড়ে মজা পাবে।“
“সেটা পরে দেখা যাবে, এখন রেডি হও… ওঠ…।”
আমি আর কিছু না বলে উঠে পড়লাম। কেন জানি মনে হতে লাগল এগুলো আগেও একবার হয়েছে।“

Use Facebook to Comment on this Post