rt TALKS with NAVEED MAHBUB

• আমার জন্ম পাকিস্তানের করাচীতে। বাবা সরকারী চাকুরীজীবী ছিলেন। মূলত সেকারনেই সেখানে যাওয়া। তারপর, যুদ্ধচলাকালীন আমরা সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসি ঢাকায়। সেখানেই আমার বেড়ে ওঠা।

• মোটামুটি শান্ত ছিলাম। তবে মাঝে মাঝে একটু আধটু দুষ্টুমি করতাম। কারও সাথে ওরকম রেগে যাওয়ার মতো কোন ঘটনা আমার জানা নেই। রেগে গেলেও সেটা ছিলো খুবই অল্প। রাগার পর অবশ্য আমার দোষ থাকুক বা না থাকুক, মাফ চেয়ে নিতাম। তবে কিশোরদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে হুটহাট রেগে না যাওয়ার। আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে যাতে রাগ পরবর্তী কোন সিদ্ধান্ত না নেয়া হয়।

• লেখাপড়ার সাথে তাল মিলিয়ে আরও অনেক কিছুই করতাম। খেলাধূলা করতাম। অনেক বই পড়তাম। গান করতাম। একসময় তবলাও বাজাতাম। তবে ষ্ট্যাম্প আর কয়েন কালেকশনের প্রতি আগ্রহ ছিলো তুলনামূলক ভাবে একটু বেশী।

• টিনএজ টাইমে খুব সামান্য কিছুকেও বিশাল কিছু মনে হতো। মনে হতো এটাই জীবনের সব। কিন্তু এখন সেসব মনে পড়ে খুব হাসি পায়। আসলে ব্যাপারটা এখন আমি বুঝি। সবার ক্ষেত্রে এমনই হয়। আমার চোখে এমনটা স্বাভাবিক। এড়ানোর কোন উপায় নেই। তবে কিশোরদের উচিত কোন ব্যাপারে পরামর্শের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া।

• জীবনের প্রতি মুহূর্তেই তো আমার ইউটার্ন ঘটছে বলে মনে হয়। তবে এর মধ্যে কমেডিকে আমার পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্তটিকেই সবচেয়ে ‘লাইফ চেঞ্জিং সিদ্ধান্ত’ বলে মনে হয়। হজ্ব থেকে ফেরার পর একটা ব্যাপার অনুভব করি। সেটা হলো, পৃথিবীতে আর কতোদিন বাঁচবো? যতোদিন বেচে আছি, যদি মানুষকে হাসার মধ্য দিয়ে কোন সৎ উপদেশ পৌঁছিয়ে দিতে পারি, ভালো পথে আনতে পারি তাহলে সেটা ছদকায়ে জারিয়া হিসেবে গন্য হবে। প্যাশন খুজে পাওয়ার ব্যাপারটিকেই আমি সবার জীবনেই অনেক বেশী জরুরী বলে মনে করি। সবার উচিত তার প্যাশনকে খুজে বের করা ও তার পরিচর্যা করা।

পরামর্শ ১-
পরিশ্রম। পরিশ্রম ছাড়া সফলতা আসলে একেবারেই অসম্ভব। তাই জীবনে ভালো কিছু করতে গেলে বা হতে গেলে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা থাকতে হবে।

পরামর্শ ২-
সৎ উদ্দেশ্য। কোন কাজ সফলতার অনেকটুকুই নির্ভর করে উদ্দেশ্যের উপর। উদ্দেশ্য যদি সৎ হয় তাহলে সে কাজটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কারণ তাতে আল্লহর সাহায্য থাকে।

পরামর্শ ৩-
অহংকার না থাকা। অহংকার কারীরা কখনো বেশীদূর আগাতে পারেনা। তারা একসময় না একসময় ভেঙ্গে পড়বেই। তাই অহংকার করা যাবে না।

পরামর্শ ৪-
সবসময় নতুন কিছু শেখার প্রবনতা। কিশোর বয়সটাকে কাজে লাগানো উচিত। যখন যেভাবে সম্ভব নতুন কিছু শেখার প্রবনতা থাকতে হবে। কারণ এটা তাদের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পথ চলতে সাহায্য করবে।

পরামর্শ ৫-
অন্যকে শ্রদ্ধা করা। অবশ্যই অবশ্যই প্রত্যেকেরই অপরকে এবং অপরের কাজকে শ্রদ্ধা করা উচিত। কারণ যার যার কাজ প্রত্যেকের কাছেই অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এতে নিজেরই লাভ।

Use Facebook to Comment on this Post