rt TALKS with SAMIRA ZUBERI HIMIKA

• জন্মের পর প্রথম দুই বছর ছিলাম চট্টগ্রামে। তারপর সেখান থেকে বাবার চাকুরী সূত্রে ঢাকায় চলে আসা।

• ছোট বেলায় খুব শান্ত ছিলাম। স্বাধীনচেতা ছিলাম। তবে টিনএজ টাইমটাতে মাঝে মাঝে বাবামা’র সাথে রাগারাগি হতো। কেউ আমার নামে মিথ্যা/ভূল কিছু বললে খুব রেগে যেতাম। আমি জানতাম যে আসলে সমঝোতার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। তাকে সামনাসামনি জিজ্ঞেস করতাম।

• ছোটবেলা থেকেই আমি খুব কালচারাল মানুষ ছিলাম। গান, ছবি আঁকা, আবৃতি ইত্যাদি নিয়েই দিন কেটে যেতো। পড়ালেখা খুব একটা হতোনা। সেসময় ন্যাশনালি অনেক কম্পিটিশন করেছি। অনেক গোল্ড মেডেল পেয়েছি। তাছাড়াও স্কুলের শেষের দিকে বিভিন্ন সামাজিক কাজ শুরু করি।

• টিনএজ টাইমে তাদের বুঝার ক্ষমতা থাকে কম। কোনটা ঠিক আর কোনটা ভূল তা ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা। আমি বলবো, কলেজ-ইউনিভারসিটি হলো রিয়েলিটি বোঝার টাইম। সময়গুলোকে সঠিক পথে কাজে লাগানো, মননশীল হওয়া, ক্রিয়েটিভিটি বাড়ানো, স্কিল তৈরি করা, ঘুরে বেড়ানো, মানুষের সাথে মেশা ইত্যাদি হচ্ছে টিনএজের কাজ।

• আমার জীবনে তো এরকম অনেক ঘটনা আছে। তবে যেটা অন্যতম মনেকরি সেটা হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স ছেড়ে আইইউবি’র মিডিয়া কমিউনিকেশনে পড়তে যাওয়া। কারন তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে ফাইন্যান্স আমার জন্য না। সবকিছুর বিপরীতে গিয়ে, বাবামা’র সাথে অনেক সিটিং-মিটিং করে, বুঝিয়েই আমি আইইউবিতে ভর্তি হই। এটা একটা লাইফ চেঞ্জিং ডিসিশন ছিলো। এটা না হলে আমি আজকের হিমিকা হতাম না।

• পরামর্শ ১- ডায়নামিক পারসন হওয়ার জন্য কো-কারিকুল্যার এক্টিভিটিজ অনেক বেশী ইম্পরট্যান্ট। তাই যতো সম্ভব গান, ছবি আঁকা, লেখালেখি, বিতর্ক এসবের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। এগুলো মানুষের ক্যারেক্টার তৈরি করতে সাহায্য করে। ডিটারমিনেশন তৈরি করতে সাহায্য করে। পড়ালেখার বাইরে অন্তত একজটা কিছুতে ভালো করতে হবে।

পরামর্শ ২- পরিক্ষাতে ভালো ফলাফল করাই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলে চলবে না। দেখা যায় যে, স্টুডিয়াস ছেলেপেলেরা এখনকার সময়ে এসে খুব বেশী ভালো করতে পারে না। এমনকি টিচার হিসেবেও না। চারদিকে যতো রিসোর্স আছে, সেখান থেকে যতো সম্ভব জ্ঞান আহরন করতে হবে।

পরামর্শ ৩- যেসব কাজ, শখ নিজেকে আনন্দ দেয়, মননশীল করে সেইসবের সাথে লেগে থাকতে হবে। প্রতিদিন মনোযোগ দিয়ে করতে হবে। কোন ভাবেই ছেড়ে দেয়া যাবে না।

পরামর্শ ৪- দুনিয়াটা অনেক বড়ো। দেশে-দেশের বাইরে যেখানেই সুযোগ হয়, অনেক ঘুরে বেড়ানো দরকার। সেখান থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। কারণ, বড়ো হলে আর ঘুরে বেড়ানোর সময় সুযোগ হয়ে উঠে না।

পরামর্শ ৫- বাবামা’র সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক খুব দরকার। তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। বাবামারা বড়ো বলে তারা যে সবকিছু পারে, সেটা কিন্তু না। ছোত হলেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে যাতে কমিউনিকেশন গ্যাপ না থাকে। যাতে জেনারেশন গ্যাপ বেড়ে না যায়। বাবামা যদি না বুঝে তাহলে অন্যান্য মানুষের যা করছে সেটাকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে তাদের বুঝানোর চেষ্টা করতে হবে। তারা যেন মনে করেন তাদের ছেলেমেয়েরা সময়গুলো সঠিক পথে ব্যয় করছে। যদি তাতেও না হয় তাহলে প্রতিদিন অল্প সময় বাচিয়ে পছন্দের কাজটা করতে হবে।

Use Facebook to Comment on this Post