রেলস্টেশন থেকে বলছি | শরীফ মোহাম্মদ আমিরুল আলম

আজ স্কুল বন্ধ। স্কুল বন্ধ হলে সারা দিন কাজ করা যায়। টাকাও একটু বেশি পাওয়া যায়।তখনই আনন্দটা সীমানা পেরিয়ে যায়,রাতে কাজ থেকে ফিরে যখন মায়ের হাতে একগুচ্ছ টাকা তোলে দিতে পারি।
.
শত কষ্টের মাঝেও মা একটুখানি হেসে বলেন, কেন এতো কষ্ট করতে গেলি? শত কিছু বললেও আমিই জানি,টাকা নামক এই অধরা বস্তুটি আমার পরিবারের জন্য কতটা প্রয়োজন।
.
আমি ইমন।
পরিবার বলতে মা,আমি আর ছোট ভাইটি। ৫নং,ভাঙ্গা রেলের ওয়াগনটি আমাদের মাথা রাখার স্থান।গতবছর বেশ ভালই ছিল শুধু দক্ষিন পাশের অংশটাই ভিজতো। কিন্তু এই বরষায় মরিচা ধরা অংশটা উঠে যাওয়ায় তিনজন একসাথে থাকা হয়ে উঠে না। একজন জেগে থেকে দুজনকে ঘুমাতে হয়।
এই রমজানে,রেল স্টেশনে যাত্রির সংখ্যা ও উপছে পড়ার মত।তাদের মালামাল বহন করে ভালই রোজগার করা যায়।প্রতিদিন একটাই চিন্তা থাকে যেন,গতকালের চেয়ে মায়ের হাতে ২০টা টাকা বেশি দিতে পারি,মায়ের হাসিটাও যেন আর একটু চওড়া হয়।
.
সেহেরীতে,ক্ষিধা নেই বলে মাকে আমার ভাগের খাবারটা খাইয়ে, যতটুকু tripti পাই। আর সেটাই মালামাল বহনে বাধা হয়ে দাড়ায়। বেলা গড়াতেই শরীরটা যেন বিদ্রোহ শুরু করে।পা গুলো অবরোধে নামে।এগুতে চায় না কিছুতেই। আবার মনে পড়ে মায়ের হাতে ২০টাকা বেশি তোলে দেয়ার কথা।
.
সন্ধ্যায় এক বড়লোক বাবুর জিনিস পত্র রেলে তোলছিলাম,ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে,তাড়াহোড়া করছিলাম যেন আমার পাওনা পরিশোধ করে দেয়।
.
আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি বললেন,তাদের সাথেই ইফতার করতে। আমার মত নিকৃষ্ট প্রানীর সাথে সাহেবরা ইফতার করবেন! কেমন জানি লাগছে,তাই অস্বিকৃতি জানালে পুরো প্যকেটটায় দিয়ে বললেন,যেন বাড়ি গিয়ে খাই।
.
অনেক দিন পর ভাল খাবার!!! প্যাকেট খুলতেই জিলেপি গুলো চোখে পড়ল।মায়ের খুবই পছন্দের খাবার।
রাতে বাড়ি ফিরে মাকে দিতেই, সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বলল,কোথায় পেলি?

হাসিটা দেখে মনে হচ্ছিল অর্ধেক স্বর্গ আমি এর মাঝেই অর্জন করে ফেলেছি।
.
.
আর টেনে পাশে বসিয়ে,যখন আদর করে দিচ্ছিল, মনে হল আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখি মানুষ

Use Facebook to Comment on this Post

Leave a comment

Your email address will not be published.